মাদ্রাসা শিক্ষকদের বেতন ২০২৪ এমপিওভুক্ত মাদ্রাসা শিক্ষকদের বেতন কত

নতুন বছরের শুরুতে মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তর নতুন কিছু শিক্ষককে এমপিওভুক্ত করার ঘোষণা দিয়েছে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে যারা দীর্ঘ সময় ধরে মাদ্রাসা গুলোতে শিক্ষকতা করেছেন তারা এই মুহূর্তে বিশেষ সুযোগ-সুবিধা ভোগ করতে চলেছেন। দীর্ঘদিন যাবত শিক্ষকতা করার পর যখন কোন শিক্ষক মাসের শেষে বেতন পায় তখন তার মনটা আনন্দ ভরে ওঠে। মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী ও মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের সূত্র মতে আমরা জানতে পারছি যে এ বছরে আরো 2600 প্রতিষ্ঠান এমপিও ভুক্তর আওতায় আনা করা হবে যার কারণে দেশের প্রায় ১০ হাজারের বেশি শিক্ষক নতুন করে এমপিওভুক্ত হতে চলেছেন।

একজন শিক্ষকের জন্য বেতন সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ কেননা এটার মাধ্যমে সে প্রতি মাসে তার নিজের সংসার চালাতে পারে। শিক্ষকতা একটি সম্মানীয় পেশা হলেও আমরা মাসের শেষে আমাদের একাউন্টে একটি বেতন ঢুকলে আমরা অনেক বেশি সন্তুষ্ট হই। অনেকেই রয়েছেন যারা মাদ্রাসাতে এমপিওভুক্ত হয়েছেন কিন্তু এখন পর্যন্ত তাদের বেতন কত সে সম্পর্কে অবগত নন। অন্যদিকে যারা নতুন করে এমপিওভুক্ত হয়েছেন তারা এই মুহূর্তে মাদ্রাসাতে যোগদানের পূর্বে শিক্ষকদের বেতন কত এই তথ্যটি জানতে চাচ্ছেন। আপনাদের অবগতির জন্য আজকের এই আর্টিকেলের ভিত্তিতে আমরা আপনাদের সাথে মাদ্রাসার শিক্ষকদের যে বেতন রয়েছে তার তালিকা ও গ্রেট উল্লেখ করে প্রতিটি তথ্য ধারাবাহিকভাবে উপস্থাপন করেছি।

এমপিওভুক্ত মাদ্রাসা শিক্ষকদের বেতন কত

বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ NTRCA কর্তৃপক্ষ প্রতিবছর পরীক্ষার ভিত্তিতে সারাদেশের মাদ্রাসা শিক্ষক নিয়োগ প্রদান করেন। আপনার ইতিমধ্যে অবগত হয়েছেন যে ১৮তম শিক্ষক নিবন্ধনের আবেদন কার্যক্রম চলমান রয়েছে এবং 18 তম শিক্ষক নিবন্ধনে যারা কৃতকার্য হবেন তাদেরকে বিভিন্ন মাদ্রাসায় নিয়োগ প্রদান করা হবে। এমপিও ভুক্ত হওয়ার পর আপনি যখন মাদ্রাসায় যোগদান করবেন তখন আপনাকে অবশ্যই যোগদানের পূর্বে যে বেতন নির্ধারণ করা হয়েছে সেটি অবশ্যই জানতে হবে।

সাধারণভাবে আমাদের দেশের যে বেতনের নীতিমালা রয়েছে তার ওপর ভিত্তি করে অর্থাৎ কততম গ্রেড রয়েছে সেটার উপর ভিত্তি করে একজন ব্যক্তি বেতন থাকে। বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ NTRCA যারা মাদ্রাসার শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ প্রাপ্ত হন তারা সাধারণভাবেই একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ মাসের শেষে পেয়ে থাকেন। আমরা যারা মাদ্রাসায় শিক্ষকতা করে তাদেরকে এমপিও নীতিমালা অনুসারে 11 তম গ্রেডে বেতন পেয়ে থাকেন যেখানে তারা প্রতি মাসে ১২৫০০ টাকা করে বেতন পান।

অন্যদিকে ইফতার দেওয়া মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষকরা সংশোধিত এমপিও নীতিমালা অনুসারে ১১ তম গ্রেড থেকে বেতন পাচ্ছেন এবং আগামী মাস থেকে তারা এ বিষয়ে অনলাইনের ভিত্তিতে আবেদন করতে পারেন। মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরে সূত্রমতে মঙ্গলবার এ তথ্য জানানো হয়েছে এবং যারা মাদ্রাসা শিক্ষকের 11 তম গ্রেডে রয়েছেন তারা অবশ্যই সঠিক পদ্ধতিতে আমাদের এখান থেকে আবেদন করার নিয়মটি জানুন।

Screenshot-2023-11-29-at-6-17-33-PM

ফাজিল মাদ্রাসা শিক্ষকদের বেতন স্কেল

অন্যদিকে যারা ফাজিল মাদ্রাসার গুলোতে দীর্ঘদিন যাবত শিক্ষকতা করছেন তারা ১৫ তম গ্রেটে রয়েছেন যার কারণে তারা ১৫ তম গ্রেড অনুসারে বেতন পেয়ে থাকেন। যারা নতুন করে ফাজিল মাদ্রাসাগুলোতে এমপিওভুক্ত হয়েছেন এবং এখানে শিক্ষকতা করার প্রতি আগ্রহ জন্মেছে তাদের উদ্দেশ্যে বলতে চাই যে আপনারা চাইলে এখন খুব সহজেই আপনাদের বেতন সম্পর্কে জানতে পারছেন। ২০১৮ সালের বেতন নীতিমালা অনুসারে আমরা জানতে পারছি যে ফাজিল মাদ্রাসার শিক্ষকদের বেতনের গ্রেড হচ্ছে 15 তম সুতরাং তারা প্রতি মাসে ২১ হাজার ৫০০ টাকা করে বেতন পাইক। এক্ষেত্রে বিভিন্ন ধরনের ভাতা যোগ করে তারা সামান্যতম বেশি বেতন পেতে পারে। তাছাড়া আমরা এখানে আপনাদের জন্য যে বেতন সংক্রান্ত তথ্য দিয়েছি তা ফাজিল মাদ্রাসার অভিজ্ঞ শিক্ষক মন্ডলী থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে।

এছাড়াও যারা মাদ্রাসাতে সহকারী শিক্ষক হিসেবে আছেন তাদের বেতন গ্রেড হচ্ছে ১৩ তম এবং তাদের শিক্ষকদের 11 তম গ্রেড বেতন দেওয়ার আদেশ জারি হয় এক বছর আগে তারপর সেই আদেশের বাস্তবায়ন করার কার্যক্রম চলমান রয়েছে।  ধারণা করা যাচ্ছে যে অতি শীঘ্রই সারা দেশের মাদ্রাসার শিক্ষকদের বেতন বাড়ানো হবে এবং ৩% বাড়ানোর ভিত্তিতে সারাদেশের যে সকল মাদ্রাসার শিক্ষক রয়েছেন তাদের বর্তমান অবস্থা একটু উন্নত হতে পারে। উপরের অংশে আপনাদের জন্য যে সকল তথ্যগুলো শেয়ার করেছি সেগুলো আপনি অবশ্যই যথাযথভাবে অনুসরণ করার চেষ্টা করবেন এবং একজন অভিজ্ঞ মাদ্রাসার শিক্ষকমন্ডলী দ্বারা আমরা এ তথ্যগুলো আপনাদের সাথে উপস্থাপন করার চেষ্টা করেছি। তাছাড়া দেশের অন্য কোন চাকরির সংক্রান্ত তথ্য এবং বেতন সম্পর্কে যেকোনো কিছু জানার জন্য আমাদের আর্টিকেলগুলো পড়তে পারেন।

Leave a comment